শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ:
ধামগড় ইউঃ শ্রমিক লীগের সাধাঃ সম্পাদক খোকনের মায়ের মৃত্যুতে সভাপতি মোশারফের শোক বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সনমান্দী ইউপি’র ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সবাইকে পরি বানু’র শুভেচ্ছা ধামগড় ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি হলেন গাজী আঃ কাদির ধামগড় ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত// সভাপতি মোশারফ ও সম্পাদক খোকন আমরা অহিংস ও নিরস্ত্র যুদ্ধ করবো-ভিপি বাদল মেয়র হাছিনা গাজীকে ও কাউন্সিলর আতিকুর রহমানকে পুনরায় নির্বাচিত করতে মতবিনিময় সভা আব্দুল হাই ভূঁইয়া’র ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এড. শাহাজাদা ভূঁইয়া’র গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জামপুর ইউনিয়নের মাঝেরচরে শেখ রাসেল শিশু কিশোর ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মদনপুর ইউনিয়ন আ’লীগের উদ্যোগে ও শেখ রুহুল আমিনের সৌজন্যে ভিপি বাদলের মাস্ক বিতরণ বন্দরের মিনারবাড়িতে বঙ্গবন্ধু পাঠাগারের সৌজন্যে ভিপি বাদলের মাস্ক বিতরণ

পর্যটন খাতে আকর্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগ চাই

সৈয়দ আফজাল বাকের: একঘেয়ে জীবন  কোনো মানুষেরই মনোপুত হতে পারে না। জীবনের এক ঘেয়েমি কম বেশি সবার মাঝেই কর্মবিমুখতার জন্ম দেয়। মেজাজ-মর্জিও সব সময় স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয় না। জড়তা বাসা বাঁধে শরীরে। এতে কর্মস্পৃহা লাঘব ঘটে। জীবনের চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে এসবই নেতিবাচকে ভূমিকা রাখে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে মানুষ হাওয়া বদলের বিষয়টিকে গুরুত্ত্ব দেয়। ছুটি ছাটাই অল্প সময়ের জন্য হলেও এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যায়। এতে মন চাঙ্গা হয়। সতেজ মন নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ করতে পারে সবাই। এ কারনেই কর্মজীবন থেকে দু-চারদিনের জন্য অবসর নিয়ে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় আজকাল অনেককে। ঈদের ছুটিতে আগের মতো বাড়িমুখো হতে দেখা যায় না এখন আর রাজধানীতে কর্মরত কিছু সংখ্যক মানুষকে। ঈদে বাড়ি যাওয়ার বিড়ম্বনা এড়াতে তারা এখন কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ঘুরতে যান।

আমরা নানা সময় নিজের দেশকে অপরূপ হিসেবে উপস্থাপন করি, বিশেষেত আবেগের জায়গা থেকে প্রায়ই বলে থাকি, এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি! কিন্তু দেশটিকে দেখার ক্ষেত্রে আমাদের একটা অবহেলা ছিল সবসময়। যদিও এ অবহেলার পিছনে খোদ পর্যটনের প্রতি মানুষের অনীহা নাকি নানা অসুবিধার কানণে মানুষ বেড়াতে অনাগ্রহী- সেটি অন্য বির্তকের বিষয়। অভ্যন্তরীণ পর্যটনের লক্ষ্যগোষ্ঠী কারা? অবশ্যই মধ্যবিত্তরা। উচ্চবিত্তরা দেশের ভিতরে বেড়াতে ভালবাসে না, ছুটিছাটা পেলে চলে যায় বিদেশের কোনো পর্যটন স্পটে। নিম্মবিত্তদের সামর্থ্য কম; ঈদ কিংবা পূজায় তারা বড়জোর নিজ এলাকার মেলা বা শিশুপার্ক জাতীয় স্থানে বেড়াতে যায়। একমাত্র মধ্যবিত্তরাই নিজ গন্ডির বাইরে অন্য এলাকায় যেতে পছন্দ করে এবং তাদের সে সামর্থ্যও আছে। তাছারা দেশের নানা জায়গায় ছোট-বড় অনেক পর্যটন স্পট থাকলেও অনেকেই সেগুলোর খবর জানতো ন। মিডিয়ার কল্যাণে এখন সেগুলো উঠে আসছে। পর্যটন স্পট নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রচলিত চিন্তা-চেতনা, থেকে মানুষ একটু একটু করে বেরিয়ে আসছে। আগে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ইত্যাদি নামকরা জায়গার প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল। কিন্তু অনেকেই এখন স্বল্প পরিচিত অপরিচিত সুন্দর কোনো জায়গা, নদীর ধারে কাশফুলের মাঠ কিংবা স্রেফ গ্রাম দেখতে বেরিয়ে পরে। এ ধরনের পর্যটক কম হলেও দিন দিন এদের সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকা শহরের মানুষ আজকাল মাওয়া ফেরিঘাট বা একদিনের ছুটি পেলে চলে যায় মানিকগঞ্জের পুরনো মসজিদ বা মন্দির দেখতে কিংবা ঘুরে আসে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে।

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশের দারুন সুযোগ রয়েছে। বিদেশীরা আসুক বা না আসুক, অভ্যন্তরীণ পর্যপন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারলেই শিল্পটি নিজ ভিত্তির ওপর দাড়িয়ে যাবে। ১৫ কোটির বেশি মানুষের অন্তত ১০ ভাগও যদি প্রতিবছর দেশের কোথাও না কোথাও বেড়াতে যায়, তাহলে এর  অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা বিশাল হবে সে হিসাব অর্থনীতিবিদরা সহজেই বের করতে পারবেন। দেশের রাজস্ব খাতেও কম আয় হবে না। কিন্তু এ পর্যটন নিশ্চিত করার জন্য অন্তত তিনটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে- অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং জিনিসপত্রের মান ও দামের সামঞ্জস্য। প্রথমটি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের চেয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তারাই এগিয়ে আসতে পারেন; কিন্তু বাকিগুলো মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে সরকারকেই কাজ করতে হবে।

পর্যটন স্পট তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের প্রচলিত ভাবনার বাইরে আসা দরকার। এখন সমুদ্র সৈকত বলতে আমরা মূলত কক্সবাজার, কুয়াকাটা বা পতেঙ্গাকে বুঝি, কিন্তু কয়জন খবর রাখি অন্য এলাকায় ছোট ছোট চমৎকার সমুদ্র সৈকত রয়েছে? ময়মনসিংহে ব্রক্ষপুত্রের তীরে কেন বেশ কিছু ভালো রিসোর্ট গড় উঠবে না? কেন মানুষ চাইলেই দু-তিন রাতের জন্য হাওর ভ্রমণে যেতে পারবে না? কেন কুমিল্লা বা ফেনীর সীমান্তসংলগ্ন বনাঞ্চলে কিছু পর্যটন স্পট গড়ে উঠবে না?

আগেকার সময়ের পর্যটন আর এখনকার পর্যটনের ধারণার অনেক পার্থক্য রয়েছে। ইবনে বতুতা বা হিউেেয়ন সাঙ যে ধরনের পর্যটক ছিলেন, সে ধরনের পর্যটক এখন খুঁজে পাওয়া ভার। পরিবর্তিত সময় ও গতিশীল জীবনই হয়তো এর কারণ। আগে পর্যটকরা একটা জায়গায় শুধু মুগ্ধ হাওয়ার জন্য ভ্রমন করতেন না সেই এলাকার মানুষের জীবন, সংস্কৃতি কিংবা পরিবেশ অধ্যায়ন ও পর্যবেক্ষন ছিল তাদের পর্যটনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। এ সময়ের পর্যটকরা কি সেদিকে নজর দেন? আজকাল বেড়াতে বের হওয়া মানে মুগ্ধ হতে যাওয়া। যে সুন্দরবন বেড়াতে গিয়ে এর সৌন্দর্য আমরা মুগ্ধ হই, লঞ্চের পাশ দিয়ে চলা সুন্দরবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ জেলে-নৌকা দেখে তাদের অবস্থার কথা আমরা কয়জন ভাবি? কয়জন কোন এলাকা থেকে ঘুরে এসে সেগুলো লিখে রাখি বা প্রকাশ করি? এখানে অবশ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিখ্যাত ব্যক্তি ছাড়া প্রিন্ট মিডিয়াগুলো সাধারণ মানুষের ভ্রমণকাহিনী খুব কম ছাপে বা ছাপেই না। অথচ মানুষের এ ধরনের লেখা বা অনুভূতি অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রচলিত চিন্তা-চেতনার বাইরে গিয়ে পর্যটনকে একটু দেশীয় ছোঁয়া দিতে পারলে অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা বিপুলভাবে বেড়ে যাবে সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিবেশ এমনই একটু চেষ্টা করলেই সারা দেশটাকেই পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশের অনেকেই যেখানে জন্মেছে, তার পাশের উপজেলা বা জেলায় যায়নি; কিন্তু একটা পর্যটন স্পট থাকলে সহজেই তারা আশেপাশের জেলাগুলোয় বেড়াতে যেতে পারতেন। পর্যাপ্ত উদ্যোগ থাকলে জেলা পর্যটনও হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম শক্তিশালী ক্ষেত্র। অনেক বেসরকারি ট্যুর অপারেটর এসব ক্ষেত্রে কাজ শুরু করলেও নানা মাত্রায় পর্যটন শিল্পের সার্বিক ভাবনা ও বিকাশে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনকেই এগিয়ে আসতে হবে। আশা করি, সংস্থাটির  কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং পর্যটন শিল্পের আর্থিক আকর্ষণ সৃষ্টিতে তারা উদ্যোগি হবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন


© All rights reserved © 2019 Newsnarayanganj71
Design & Developed BY N Host BD